কোম্পানিতে ঢুকতে না ঢুকতে


 

এক মেয়ের সাথে ধা*ক্কা খাইলাম।মেয়েটার হাত থেকে মোবাইলটা পরে গেল।আর আমার হাত থেকে আমার অফিসের কাগজ পএ পড়ে গেলো।


আমিঃ সরি, সরি আমারই ভুল হইছে।


মেয়েঃ সরি,সরি 


আমিঃ আমারই অন্য দিকে খেয়াল ছিল।সরি(আসলে আমি ইন্টারভিউ সম্পর্কে ভাবছিলাম কি জিজ্ঞেস করবে পারমো তো। এসব ভাবতে ভাবতে আসছিলাম মনটা অন্য দিকে চলে যায়। তখনই ধা*ক্কা টা খাই।)


মেয়েঃ আমিও সরি আমারও অন্য দিকে খেয়াল ছিলো(মানে মোবাইলের দিকে)


আমি ঃ সরি সরি


( এই বলে সে ও তার মোবাইলটা ওঠাতে লাগল। আমিও সরি সরি বলতে আমি আমার জিনিস পএ ওঠাতে লাগলাম। দুইজনে একসাথে নোয়ায় আবার দুইজনে ঠো*শ খাইলাম মাথায়।দুইজনে আবার মাথায় হাত ধরে ওঠলাম)


আমিঃ সরি,সরি বলে আমি দারিয়ে রইলাম।


(সেও ওঠে দারিয়ে বলল। মনে হয় অনেক ব্যাথা পেয়েছে।)


মেয়েঃ এই যে ছেলে মন কোথায় থাকে?যতসব ফা*লতু। কোথা থেকে যে কোম্পানিত আসে (রেগে কথা গুলো বলল)


(এই বলে এই মেয়েটি চলে গেল।)


আমিঃ মনে মনে বললাম।(ইন্টারভিউ দিতে আসলাম শুরু হল সমস্যা। আল্লায় জানে পরে কি হবে।আমি কিন্তু আরো অনেক জায়জায় ইন্টারভিউ দেয়িছে। কিন্তু হইনি। টাকা লাগে কিন্তু আমার বাপের এত টাকা নাই।)


চলেন আমার পরিচয় দিয়ে নেই


আমি সাব্বির। মাস্টার শেষ করলাম।

চাকরি খুজছি। পাচ্ছি না। 

বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর থানায়। 


ইন্টার এর পর থেকে ঢাকায় ব্যাচালার থেকে পড়া লেখা করিছি।


আমি তেমন একটা বড় লোক না।মধ্যবিত্ত।আমার বাবা কৃষিকাজ করে।আমি এবং আমার বোন আমরা ২ ভাই বোন। বাড়ি থেকে আর কত টাকা আনব। বাবার শরীর তেমন একটা ভালো না।


আমার বন্ধু সাকিব।আমি আর সে একসাথে ব্যাচালার থেকেছি। তার ও আমার মত অবস্থা। পরিবার আমার মতই। বাবার ছোট মুদির দোকান। তারা ও দুই ভাই।


আজ আমরা ২ বন্ধু মিলে চাকরি খুঁজতাছি। পাচ্ছি না।আবার এদিকে বাড়িওলা বলতাছে বাড়ি ছেড়ে দিতে।বাড়িতে বলে ব্যাচালার বাড়া দিবেনা। ফ্যামিলি বাড়া দিবে।


তাই বাড়ি টা ছেড়ে দিতে হবে। তাই দুইজনে মিলে বাড়ি খুঁজতাছি। আপনারা তো জানেনই ঢাকা শহরে ব্যাচালার বাসা পাওয়া কত কঠিন। 

অবশেষে পাইছি ১০—১৫ দিন ঘুরে।


ওঠেছি দুই দিন হইছে।

এসে একটা চাকরির আবেদন করলাম।

ভাগ্য ভালো এই চাকরিতে ইন্টারভিউ দেয়ার সুযোগ হল। যে কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাব সে কোম্পানিটা দেশের অনেক নামকরা কোম্পানি। 

সে কোম্পানি তে ঢোকার সময় এই 

মেয়ের সাথে এই ধাক্কা।


তারপরন ইন্টারভিউ দিতে আসলাম। ইন্টারভিউ অনেক ভালো হল। ম্যানেজার সাহেব কে বললাম স্যার আমার কি চাকরি হবে?


ম্যানাজারঃ হতে পারে। তোমার ইন্টারভিউ অনেক ভালো হইছে।দেখা যাক।


আমিঃThank you sir. স্যার আমার পরিবারের অবস্থা বেশি একটা ভালো 

না।স্যার আমার ব্যাপারে একটু দেখবেন 

(বললাম মন ম*রা করে। স্যারের কথা থেকে মনে হচ্ছে স্যার অনেক দয়ালু।)


ম্যানাজারঃ আচ্ছা দেখব।আসলে কোম্পানির এই পোস্টে অনেক লোক ইন্টারভিউ দিয়েছে। তাই আমি তোমার ব্যাপারে দেখবো। তোমার ইন্টারভিউ

অনেক ভালো হয়েছে। তোমার ব্যাপারে আমি বসের সাথে কথা বলবো।


আমিঃ Thank you sir।


ম্যানেজারঃ Welcome। তোমার কাছে দুই একদিন এর বিতরে কল যাবে।

তার বিতরে তুমি আল্লার কাছে দোয়া কর।


আমিঃ Thank sir। আমার ব্যাপারটা একটু দেখবেন। 


ম্যানেজারঃঅকে যাও।


আমিঃ সালাম দিয়ে চলে আসালাম।

বাসায় আসলাম। 


এসে দেখি সাকিব বসে রয়ছি।

(আজ তাকে খুশি দেখাচ্ছে) 

সাকিবঃ কিরে দোস্ত ইন্টারভিউ কেমন হল?


আমিঃ ভালো।অনেক ভালো।তোর কেমন হইছে?


সাকিবঃ ভালো অনেক ভালো ।ম্যানেজার বলছে আগামীকাল যাওয়ার জন্য।

(আমি খুশিতে তাকে জড়িয়ে দরলাম)


আমিঃ দোয়া করি তর চাকরিটা যেন হয়।


সাকিবঃ তদের কোম্পানির ম্যানেজার কি বলল?


আমিঃ বলছে দুই একদিন এর

 ভিতরে ফোন দিবে।


সাকিবঃ দোয়া করি তরটা যেন হয়।


(দুইজনে কথা বলে খেতে বসলাম)


আমিঃ আর বলিস না। অফিসে ঢোকতে না ঢোকতেই এক সমস্যা হল।এক মেয়ের সাথে ধা*ক্কা খাইলাম।


সাকিবঃ হুম। তারপর


আমিঃ তারপর সরি সরি। মেয়েটা সরি সরি বলল।


সাকিবঃ তারপরে 


আমিঃ আমি ও সরি সরি বলতে আমার জিনিস কাগজ পএ ওঠাতে লাগলাম

আর এদিকে মেয়েও তার মোবাইল ওঠাতে লাগল। দুইজনে একসাথে নোয়ায় আাবার ঠো*শ😆 


সাকিবঃ তারপরে। হাসতে হাসতে বলল 


আমিঃ দুইটা বকা দিয়ে চলে গেলো।


সাকিবঃ অহহহ


খাইতে খাইতে বিকাল হয়ে গেল।


(পরের দিন সাকিব অফিসে চলে গেলো 

আমি বাসায় বসে আছি।

 এমন সময়

একটা ফোন আসল।)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ